🏍 ইলেকট্রিক বাইক এর সুবিধা

  Date: 2020-02-09    Views: 385





সময়ের সাথে সাথে নতুনত্ব আসবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু প্রতিবার এই নতুনত্ব মুলত আপনার জীবনকে আরও সহজ করার তাগিদেই নিয়ে আসা যা প্রতি নিয়তই সৃষ্টিশীল মানুষকে আরও নতুন কিছু চিন্তা করার খোরাক জোগায়। নিঃসন্দেহে মোটরসাইকেল মানুষের চলার পথ অনেক সহজ করেছে। সহজ করেছে শহরের ভীড়ের পথ ঠেলে একান্ত নিজের পথ তৈরি করে নেওয়ার উপায়। সামনের দিন আরও সহজ করে দিতে এইবার আসছে ইলেক্ট্রিক বাইক যা সকল বয়সী মানুষের কাছে হতে পারে একটি আদর্শ বাহন শুধুমাত্র এর বিশেষ কয়েকটি গুনের কারনে। চলুন দেখে নিই ইলেক্ট্রীক বাইকের সবচেয়ে আকর্ষনীয় কয়েকটি দিক যা আপনার আমার সকলের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যথেস্ট হতে পারেঃ

১। পরিবেশ বান্ধবঃ

ইলেক্ট্রিক বাইকের সবচেয়ে উপকারী দিক নিয়ে বলতে গেলে সবার আগে উল্লেখ করতে হবে এর শতভাগ পরিবেশবান্ধব ফিচার সমুহ কারন এতে কোন রকম ধোয়া উৎপাদন হয় না আর এই কারনে এই বাইক কোনভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করবে না। হয়তো আগামীতে সারাবিশ্বে জ্বালানী চালিত বাহন নিষিদ্ধ হতে চলেছে শুধুমাত্র পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে যেখানে শুধুমাত্র ইলেক্ট্রিক বা বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের দেখা মিলবে।

২। রক্ষনাবেক্ষন খুব সহজঃ

সাধারন পেট্রোল চালিত বাইক যন্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে যতটা প্যাড়া দেয় বা দিবে সে তুলনায় বিদ্যুৎ চালিত মোটরসাইকেল আপনাকে অনেক আরামে রাখবে কারন এতে রক্ষনাবেক্ষনের ঝামেলা নেই বললেই চলে। আপনাকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ব্যাটারী বদলাতে হবে, ব্যাটারীর চার্জের লেভেল খেয়াল করে চার্জ দিতে হবে এবং সাধারন যত্নের সাথে ব্যবহার এবং চালাতে হবে।

৩। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও চলবেঃ

ইলেক্ট্রিক বাইকের অন্যতম মজা হলো এই বাইক চালানোর জন্যে আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স না করলেও চলবে এমনকি এই বাইকের লাইসেন্সের জন্যে আপনাকে বিআরটিএ তে গিয়ে কাগজ বা অনুমতির জন্যে লাইনে দাড়াতে হবে না, সুতরাং আপনি নিজের জন্যে বিদ্যুত চালিত বাইক নিলেও তা আপনার পরিবারের যে কেউ কোন রকম আইনি জটিলতা ছাড়াই ব্যবহার কররে পারবে।

৪। অর্থ সাশ্রয়ীঃ

সুবিধা এবং ফিচার দিয়ে তুলনা করলে সাধারন বাইকের থেকে ইলেক্ট্রিক বাইক শুধু দামে কম তা না বরং পরবর্তী যেকোন সার্ভিস এবং মেইন্টানেন্সে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। কারন এতে নিয়ম করে আপনাকে ফুয়েল রিফিল করা লাগবে না বরং চার্জিং মিটার চেক করে চার্জ দিতে হবে সেক্ষেত্রেও আপনি চাইলে প্রাকৃতিক শক্তি অর্থাৎ সোলার প্যানেল দিয়ে চার্জের অপশন বেছে নিতে পারেন। এতে করে মুল গ্রীডের বিদ্যুৎ অনেকটাই সাশ্রয় হবে।

৫। শব্দহীন এবং যথেস্ট শক্তিশালী বাহনঃ

ইলেক্ট্রিক বাইকে কোন রকম শব্দ আপনি টের পাবেন না বললেই চলে আবার আপনি শহর কিংবা গ্রাম যেখানেই এই বাইক রাইড করেন না কেন আপনি যথেস্টই আরামদায়ক রাইডিং এর অনুভুতি পাবেন কারন এর সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি যা একজন ইলেক্ট্রিক বাইক পছন্দকারীর জন্যে যথেস্ট। একই সাথে ইন্সট্যান্ট টর্কের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় ইলেক্ট্রিক বাইক আত এই কারনে আপনাকে গতি উঠানোর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে না।

৬। মহিলা এবং সিনিয়র নাগরিকের জন্যে আদর্শঃ

ইলেক্ট্রিক বাইকের ডিজাইন মুলত তাদের জন্যে যারা অতিরিক্ত কোন কিছু পছন্দ করে না। পথ চলতে গিয়ে আমরা অনেক সময় অতিগতি বা অতিরিক্ত শব্দ বা অতিরিক্ত খরচ এবং বাজেটের কারনে সাধারন বাইকের প্রতি বিরক্ত হয়ে বেছে নিই গনপরিবহন যেখানে সময় নষ্ট এবং ভোগান্তির শেষ থাকে না। এই ইলেক্ট্রিক বাইক হতে পারে আপনার পথ চলার সমাধান কারন আকারে ছোট হওয়ায় যেকোন পথে আপনাকে আপনার পথ তৈরি করে দিতে পারবে।

৭। ওজনে হালকাঃ

এই বাইকের নিয়ন্ত্রন পেতে আপনাকে খুব বেশি এডজাস্টের প্রয়োজন হবে না কারন এটি ওজনে হালকা এবং বেশির ভাগ ইলেক্ট্রিক বাইক ডিস্ক ব্রেকের সমন্বয়ে তৈরি তাই যেকোন পরিস্থিতিতে আপনাকে কাংক্ষিত নিয়ন্ত্রনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে না।

উপরের সকল সুবিধাবলী ছাড়াও কিছু অমিমাংসিত বা অদেখা কিছু সমস্যাও রয়েছে ইলেক্ট্রিক বাইকের সাথে এর মধ্যে প্রথমত হলো - এই বাইক চার্জ হতে অনেক সময় লাগে এবং একবার চার্জ দিয়ে আপনি খুব বেশিদুর যেতে পারবেন না আবার যত্রতত্র আপনি এই বাইকের চার্জিং পয়েন্টও বর্তমান সময়ে পাবেন না। সোলার প্যানেলের মাধ্যেমে চার্জিং এখনও তেমনটা জনপ্রিয় হয়নি সুতরাং এর চার্জিং পুরোটাই জাতীয় গ্রিড থেকে সম্পন্ন হবে যা বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারন হলেও হতে পারে। ইলেক্ট্রিক বাইক হাইওয়েতে চলার কোন অনুমতি নাই।

কাজেই আপনি যদি ইলেক্ট্রিক বাইক নিতে আগ্রহী হন তবে আপনাকে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক সকল দিক বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে।